Jonaki
জোনাকি ফ্যাশন এখানে ছোট বড়, ছেলে মেয়েদের সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। খুব আর্কষনীয় ও স্বল্পমূল্যে সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায়।
রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩
শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
ছোটবেলার চড়ই ভাতি খেলা
ছোটবেলার চড়ইভাতি খেলা কতোই না মজার। কাদা মাটির তৈরি ছোট ছোট হাড়িতে মিছেমিছি রান্না করা। তার মধ্যে একটিতে ধুলা মাটির তৈরি ভাত। একটিতে লতাপাতা দিয়ে সবজি। ছোটবেলায় এই খেলাটা খুব খেলেছি। দিনভর খাওয়া-দাওয়া ভুলে চড়ইভাতি খেলায় আমাদের আনন্দের শেষ ছিল না। ধুলাবালি মেখে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পরে চলে মায়ের বকুনি। দুটো দল থাকতো আমাদের। দুই দলেই তিন চার জন করে। বিভিন্ন লতাপাতা আর টোপা পানার সবকিছু নিয়ে বিভিন্ন রকম তরকারি রান্না করতাম।ইটের টুকরা গুলো মাংস বানাতাম।আর ইটের গুড়ি গুলো তরকারির রং হিসাবে ব্যবহার করতাম।একেক দল একেক রকম আইটেম রান্না করতো। রান্না শেষ হলে দুই দল দাওয়াত দিতো এক দলের বাড়ি আরেক দল দাওয়াত খেতে যেতো।কত রকম তরকারি,পোলাও, মাংস, বানাতাম আর মিছেমিছি খেতাম।
এমন দৃশ্য গ্রামে চোখে পড়লেও শহর থেকে চড়–ইভাতি খেলা হারিয়ে গেছে বললেই চলে।তবে এখন গ্রামেও এই খেলা দেখা যায় খুব কম। নতুন এই প্রজন্ম এসব খেলা বোঝেই না। অথচ কতশত সৃত্মি জড়িয়ে আছে ৯০ দশকের ছেলেমেয়েদের এই খেলাকে কেন্দ্র করে। খুব মনে পড়ে খেলাটার কথা।
বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বগুড়া জেলার একটা খেলা গোল্লাছুট
স্কুল মাঠ, খোলা জায়গা আমরা গোল্লাছুট খেলায় মেতে উঠতাম। এ খেলার জন্য ছোটাছুটি ও দৌড়াদৌড়ির জন্য বেশ জায়গা লাগে। গোল্লাছুট খেলায় দু’টি দল থাকে।
এ খেলায় দলগঠনের নিয়মটিও মজার। প্রথমে দু’টি দলের জন্য দলনেতা নির্ধারণ করা হয়। এর পর অন্য খেলোয়াড়দের দু’জন দু’জন করে জুটি বেঁধে একটু দূরে যেতে বলা হয়। প্রত্যেক জুটি পৃথকভাবে তাদের নাম রাখে। তারপর দলনেতাদের সামনে এসে নাম বলে এবং যে নাম যে দলনেতা পছন্দ করে সেই নামের জন তার দলে যোগ দেয়।
যেমন : কোনো জুটি একটু দূরে গিয়ে তাদের নাম ঠিক করল উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। দলনেতাদের সামনে গিয়ে তারা বলে_ কে নেবে উড়োজাহাজ কে নেবে হেলিকপ্টার একজন
উড়োজাহাজ চাইলে অন্যজনের ভাগে পড়ে হেলিকপ্টার। ভাগ হয়ে দুজন দুদলে চলে যায়। এভাবেই দুই দলে সবাই ভাগ হয়। এরপর খেলা শুরু হয়। খেলা শুরুর আগে পানি বা ইটের গুড়ি দিয়ে একটা গোল দাগ দেওয়া হয়
ওই গোল থেকে দৌড়ে সীমানাকে ছোঁয়াই খেলার প্রধান লক্ষ্য। গোল থেকে ছুটে গিয়ে সীমানা ছোঁয়ার কারণেই এই খেলার নাম হয়েছে গোল্লাছুট।
এই খেলার দলনেতা গোলকে ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর গোলের হাত ধরে দাঁড়ায় এক সদস্য। এরপর একে অপরের হাত ধরে লম্ব হয়ে ঘুরতে থাকে। আর অন্য পক্ষের খেলোয়াড়রা তাদের ঘিরে দূরে দাড়িয়ে থাকে। দলনেতাকে ধরে ঘুরতে থাকা খেলোয়াড়রা ফাঁক বুঝে দৌড় দিয়ে সীমানাকে ছুঁতে চেষ্টা করে। আর অপরপক্ষ ছুটে চলে দৌড় দেয়া খেলোয়াড়কে সীমানা ছোঁয়ার আগে ছুঁয়ে দিতে। যদি ছুঁয়ে দিতে পারে তাহলে ওই খেলোয়াড় খেলা থেকে বাদ পড়ে।
অন্যদিকে সীমানা ছুঁতে পারলে জয়ের দিকে একধাপ এগিয়ে যায় তারা। এভাবে চলতে চলতে গোলকে ঘিরে ঘুরতে থাকা দলের সব সদস্য সীমানা ছুঁয়ে ফেললে তারা সকলে গোলে এসে জোড় লাফ দিয়ে দিয়ে সীমানার দিকে যেতে থাকে। সবাই জোড় লাফে ঠিকমতো সীমানা ছুঁতে পারলে ওই দান (পর্ব) তারা জিতে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ যদি কোন খেলোয়াড়কেই সীমানা ছুঁতে না দেয় তাহলে তারা দান পায়। পরে প্রতিপক্ষ দলনেতা গোলকে ছুঁয়ে দাঁড়ায় আর অন্য সদস্যরা তাকে ছুঁয়ে আগের মতো ঘুরতে থাকে এবং চেষ্টায় থাকে কখন ছুটে গিয়ে সীমানা ছুবে। এভাবেই ঘুরে ফিরে খেলা চলতে থাকে।
কত যে খেলেছি ছোট থাকতে এই খেলা। খুব মনে পড়ে খেলাটার কথা।
বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বগুড়া জেলার আর একটি খেলা
ইচিং বিচিং চিচিং ছা
প্রজাপতি উড়ে যা.. এটি খেলার ছড়া।”
খেলাটি খেলার জন্য দুইজন খেলোয়াড় পাশাপাশি বসে খেলোয়াড়রে অতিক্রম করার জন্য উচ্চতা নির্মাণ করে দেয়। প্রথমে তারা দু’পায়ের গোড়ালি দিয়ে পা মাটিতে রেখে উচ্চতা তৈরি করে। খেলোয়াররা উচ্চতা পার হবার পর পায়ের উপর আরেক পা তুলে উচ্চতা বাড়িয়ে দিয়ে।
এরপর এক হাত প্রসারিত করে পায়ের উপর বসিয়ে উচ্চতা বাড়িয়ে দেয়। তারপর দু’হাত প্রসারিত করে আরও উচ্চতা বাড়িয়ে তোলা হয়। সব উচ্চতা অতিক্রম করার পর বসে থাকা খেলোয়াড়েরা দু’পা মুক্ত করে তিকোণাকৃতি একটি সীমানা তৈরি করে।
দু’পায়ে ঘেরা সীমানাটি পা তুলে দম দিতে দিতে বা ছড়া বলতে বলতে তিনবার লাফ দিয়ে অতিক্রম হতে হয়। সীমানাটি অতিক্রম করার পর বসে থাকা খেলোয়াড়েরা যুক্ত পা কে প্রতিটি খেলোয়াড় শূন্যে লাফিয়ে ইচিং বিচিং ছড়া বলতে বলতে দু’বার অতিক্রম করে নেয়। আর এভাবেই খেলাটি শেষ হয়।
এই খেলা গুলো আমার ছোট বেলার খেলা। বগুড়া জেলার এমন কোন গ্রাম নাই যে যারা ৯০ দশকের তারা এই খেলা খেলেনি।
শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বগুড়া জেলার গ্রামবাংলার খেলা
কুতকুতঃ
গ্রামীন কিশোরী-তরুণীদের অন্যতম প্রধান খেলা । বিকালের নরম আলোয় গৃহের আঙ্গিনায় কৈশর পেরোনো তরুণীরা কুতকুত খেলায় মেতে ওঠে । বর্ষার পরের নরম মাটিতে মাটির ভাঙ্গা তৈজসপত্রের অংশ দিয়ে দাগ কেটে কুতকুতের জন্য ঘর বানানো হয় । বাংলার গ্রামীণ মেয়েরা যে কোনো ঋতুতেই এই খেলা খেলে থাকে ।
খেলার নিয়মাবলীঃ
আয়তক্ষেত্রাকার মোট ৭/৮টি ঘর আঁকা হয় এবং এই ঘরগুলোর শেষ মাথায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির আর একটি ঘর বানানো হয়। প্রথম ঘরে গুটি ফেলে এক পা শূন্যে রেখে এবং দম দিতে দিতে গুটিকে সবগুলো ঘর অতিক্রম করে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘরে এনে পা নামিয়ে দম ফেলা যায়। তার পর এই ঘর থেকে গুটিকে পা দিয়ে আঘাত করে সব ঘর অতিক্রম করানোর চেষ্টা করা হয়। গুটিটি সব ঘর অতিক্রম না করলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘর থেকে বের হয়ে শূন্যে পা তুলে দম নিতে নিতে তাকে আবার আগের নিয়মে ঘর থেকে বের করে আনতে হয়। খেলোয়াড়রা কপালে গুটি রেখে উপর দিকে তাকিয়ে ৮টা ঘরের দাগে পা না ফেলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘরে যেয়ে আবার প্রথম ঘরে ফেরত আসতে পারলে সে ঘর কেনার যোগ্যতা অর্জন করে। কুতকুত খেলায় যে ঘর কেনা হবে সেই ঘরে পা বা গুটি ফেলা যাবেনা। ঘর কেনার প্রক্রিয়াকালীন সময় খেলোয়াড়ের দাঁত দেখা গেলে ঐ খেলোয়াড়ের খেলা ঐ অবস্থায় মারা যায়। ক্রমান্বয়ে ঘর কিনে শেষ ঘরটি দখল করার মাধ্যমে খেলার নিস্পত্তি হয়।
কয়দিন আগে নানীর বাড়ি গিয়ে আমার ছেলে ছোট ছোট মেয়েদের খেলা দেখে কুতকুত খেলা শিখেছে। খুব ভালো লাগলো যে এখনো গ্রামে ছোট ছেলে মেয়েরা কুতকুত খেলে। আমি ও আগে এই খেলা খেলতাম। খুব মজার একটা খেলা।
শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
আমাদের বগুড়া জেলার একটি খেলা
কড়ি খেলাঃ
এটি আরেকটি বাংলাদেশের গ্রামীন খেলা । যে সব কৈশোর উত্তীর্ণ মেয়েদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত সাধারণত তারাই কড়ি বেশী খেলে থাকে। কড়ি পাঁচ গুটির মতই সমান জনপ্রিয় একটি খেলা । কড়ি হিসাবে খেজুরের বিচী দিয়ে কড়ি বানিয়ে খেলতাম।
খেলার নিয়ামাবলীঃ
কড়ি খুবই সহজ ও সরল একটি খেলা। চারটি কড়ি কোনো মসৃণ স্থানে হাত থেকে গড়িয়ে দিয়ে জোড়ায় জোড়ায় টোকা দিয়ে আঘাত করে পয়েন্ট সংগ্রহ করা হয়। আঘাত করতে ব্যর্থ হলে বা কড়ি চালার পর এক সাথে লেগে থাকলে ঐ খেলোয়াড়ের দান নষ্ট হয়ে যায় এবং অন্য জন খেলা শুরু করে। নিজের মাথার চুল দিয়ে গ্রামের মেয়েরা প্রায়ই আপাত স্পর্শ করে থাকা গুটিকে পৃথক প্রমাণ করে থাকে। কড়ি চালার পর যদি তিনটি গুটির বুক উপড়ে থাকে তবে ঐ দান নষ্ট হয় আর যদি চারটি গুটিই বুক উপড়ে থাকা অবস্থায় পড়ে তবে প্রতি গুটির জন্য চারটি করে পয়েন্ট পাওয়া যায় এবং এই গুটি সংগ্রহ করা নিয়ে খেলোয়াড়দের মাঝে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়।এটা খুব মজার একটা খেলা।বিষেশ করে বৃষ্টির দিনে সবাই খুব খেলতাম কারন তখন বাহিরে যাওয়া যেত না।কখনো দুই জন কখনো তিন জন মিলে খেলতাম।
বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
গ্রামীন একটা খেলা
কানামাছি
গ্রমীণ খেলাধুলার মধ্যে কানামাছি একটি চমৎকার খেলা । এদেশের সর্বত্র শিশু কিশোররা এ খেলা খেলে থাকে ।
এই খেলার সাথে সাথে ছেলে মেয়েদের মুখি উচ্চারিত হয়ঃ
"কানামাছি ভোঁ ভোঁ
যারে পাবি তারে ছো"
খেলার নিয়ামাবলীঃ
এ খেলায় কাপড় দিয়ে একজনের চোখ বেঁধে দেয়া হয়, সে অন্য বন্ধুদের ধরতে চেষ্টা করে । যার চোখ বাঁধা হয় সে হয় 'কানা' । অন্যরা 'মাছি'র মতো তার চারদিক ঘিরে কানামাছি ছড়া বলতে বলতে তার গায়ে টোকা দেয় । চোখ বাঁধা অবস্থায় সে অন্যদের ধরার চেষ্টা করে । সে যদি কাউকে ধরতে পারে এবং বলতে পারে তার নাম তবে ঐ ব্যক্তিকে কানামাছি সাজতে হয় । খুব মজার একটা খেলা
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
Click here
-
প্রযুক্তির ব্যবহার সময় বদলে গেছে এবং সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে পারিপার্শ্বিক অবস্থা।সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ...
-
গ্রামীন খেলা মোরগ লড়াই গ্রামের অসাধারণ মজার একটা খেলা মোরগ লড়াই।ছেলেরাই বেশি খেলে থাকে তবে মেয়েরাও খেলে। আমি এই খেলায় ...
-
বগুড়া জেলার একটা খেলা গোল্লাছুট স্কুল মাঠ, খোলা জায়গা আমরা গোল্লাছুট খেলায় মেতে উঠতাম। এ খেলার জন্য ছোটাছুটি ও দৌড়াদৌড়ি...