জোনাকি ফ্যাশন এখানে ছোট বড়, ছেলে মেয়েদের সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। খুব আর্কষনীয় ও স্বল্পমূল্যে সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায়।
রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩
শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
ছোটবেলার চড়ই ভাতি খেলা
ছোটবেলার চড়ইভাতি খেলা কতোই না মজার। কাদা মাটির তৈরি ছোট ছোট হাড়িতে মিছেমিছি রান্না করা। তার মধ্যে একটিতে ধুলা মাটির তৈরি ভাত। একটিতে লতাপাতা দিয়ে সবজি। ছোটবেলায় এই খেলাটা খুব খেলেছি। দিনভর খাওয়া-দাওয়া ভুলে চড়ইভাতি খেলায় আমাদের আনন্দের শেষ ছিল না। ধুলাবালি মেখে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পরে চলে মায়ের বকুনি। দুটো দল থাকতো আমাদের। দুই দলেই তিন চার জন করে। বিভিন্ন লতাপাতা আর টোপা পানার সবকিছু নিয়ে বিভিন্ন রকম তরকারি রান্না করতাম।ইটের টুকরা গুলো মাংস বানাতাম।আর ইটের গুড়ি গুলো তরকারির রং হিসাবে ব্যবহার করতাম।একেক দল একেক রকম আইটেম রান্না করতো। রান্না শেষ হলে দুই দল দাওয়াত দিতো এক দলের বাড়ি আরেক দল দাওয়াত খেতে যেতো।কত রকম তরকারি,পোলাও, মাংস, বানাতাম আর মিছেমিছি খেতাম।
এমন দৃশ্য গ্রামে চোখে পড়লেও শহর থেকে চড়–ইভাতি খেলা হারিয়ে গেছে বললেই চলে।তবে এখন গ্রামেও এই খেলা দেখা যায় খুব কম। নতুন এই প্রজন্ম এসব খেলা বোঝেই না। অথচ কতশত সৃত্মি জড়িয়ে আছে ৯০ দশকের ছেলেমেয়েদের এই খেলাকে কেন্দ্র করে। খুব মনে পড়ে খেলাটার কথা।
বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বগুড়া জেলার একটা খেলা গোল্লাছুট
স্কুল মাঠ, খোলা জায়গা আমরা গোল্লাছুট খেলায় মেতে উঠতাম। এ খেলার জন্য ছোটাছুটি ও দৌড়াদৌড়ির জন্য বেশ জায়গা লাগে। গোল্লাছুট খেলায় দু’টি দল থাকে।
এ খেলায় দলগঠনের নিয়মটিও মজার। প্রথমে দু’টি দলের জন্য দলনেতা নির্ধারণ করা হয়। এর পর অন্য খেলোয়াড়দের দু’জন দু’জন করে জুটি বেঁধে একটু দূরে যেতে বলা হয়। প্রত্যেক জুটি পৃথকভাবে তাদের নাম রাখে। তারপর দলনেতাদের সামনে এসে নাম বলে এবং যে নাম যে দলনেতা পছন্দ করে সেই নামের জন তার দলে যোগ দেয়।
যেমন : কোনো জুটি একটু দূরে গিয়ে তাদের নাম ঠিক করল উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। দলনেতাদের সামনে গিয়ে তারা বলে_ কে নেবে উড়োজাহাজ কে নেবে হেলিকপ্টার একজন
উড়োজাহাজ চাইলে অন্যজনের ভাগে পড়ে হেলিকপ্টার। ভাগ হয়ে দুজন দুদলে চলে যায়। এভাবেই দুই দলে সবাই ভাগ হয়। এরপর খেলা শুরু হয়। খেলা শুরুর আগে পানি বা ইটের গুড়ি দিয়ে একটা গোল দাগ দেওয়া হয়
ওই গোল থেকে দৌড়ে সীমানাকে ছোঁয়াই খেলার প্রধান লক্ষ্য। গোল থেকে ছুটে গিয়ে সীমানা ছোঁয়ার কারণেই এই খেলার নাম হয়েছে গোল্লাছুট।
এই খেলার দলনেতা গোলকে ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর গোলের হাত ধরে দাঁড়ায় এক সদস্য। এরপর একে অপরের হাত ধরে লম্ব হয়ে ঘুরতে থাকে। আর অন্য পক্ষের খেলোয়াড়রা তাদের ঘিরে দূরে দাড়িয়ে থাকে। দলনেতাকে ধরে ঘুরতে থাকা খেলোয়াড়রা ফাঁক বুঝে দৌড় দিয়ে সীমানাকে ছুঁতে চেষ্টা করে। আর অপরপক্ষ ছুটে চলে দৌড় দেয়া খেলোয়াড়কে সীমানা ছোঁয়ার আগে ছুঁয়ে দিতে। যদি ছুঁয়ে দিতে পারে তাহলে ওই খেলোয়াড় খেলা থেকে বাদ পড়ে।
অন্যদিকে সীমানা ছুঁতে পারলে জয়ের দিকে একধাপ এগিয়ে যায় তারা। এভাবে চলতে চলতে গোলকে ঘিরে ঘুরতে থাকা দলের সব সদস্য সীমানা ছুঁয়ে ফেললে তারা সকলে গোলে এসে জোড় লাফ দিয়ে দিয়ে সীমানার দিকে যেতে থাকে। সবাই জোড় লাফে ঠিকমতো সীমানা ছুঁতে পারলে ওই দান (পর্ব) তারা জিতে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ যদি কোন খেলোয়াড়কেই সীমানা ছুঁতে না দেয় তাহলে তারা দান পায়। পরে প্রতিপক্ষ দলনেতা গোলকে ছুঁয়ে দাঁড়ায় আর অন্য সদস্যরা তাকে ছুঁয়ে আগের মতো ঘুরতে থাকে এবং চেষ্টায় থাকে কখন ছুটে গিয়ে সীমানা ছুবে। এভাবেই ঘুরে ফিরে খেলা চলতে থাকে।
কত যে খেলেছি ছোট থাকতে এই খেলা। খুব মনে পড়ে খেলাটার কথা।
বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বগুড়া জেলার আর একটি খেলা
ইচিং বিচিং চিচিং ছা
প্রজাপতি উড়ে যা.. এটি খেলার ছড়া।”
খেলাটি খেলার জন্য দুইজন খেলোয়াড় পাশাপাশি বসে খেলোয়াড়রে অতিক্রম করার জন্য উচ্চতা নির্মাণ করে দেয়। প্রথমে তারা দু’পায়ের গোড়ালি দিয়ে পা মাটিতে রেখে উচ্চতা তৈরি করে। খেলোয়াররা উচ্চতা পার হবার পর পায়ের উপর আরেক পা তুলে উচ্চতা বাড়িয়ে দিয়ে।
এরপর এক হাত প্রসারিত করে পায়ের উপর বসিয়ে উচ্চতা বাড়িয়ে দেয়। তারপর দু’হাত প্রসারিত করে আরও উচ্চতা বাড়িয়ে তোলা হয়। সব উচ্চতা অতিক্রম করার পর বসে থাকা খেলোয়াড়েরা দু’পা মুক্ত করে তিকোণাকৃতি একটি সীমানা তৈরি করে।
দু’পায়ে ঘেরা সীমানাটি পা তুলে দম দিতে দিতে বা ছড়া বলতে বলতে তিনবার লাফ দিয়ে অতিক্রম হতে হয়। সীমানাটি অতিক্রম করার পর বসে থাকা খেলোয়াড়েরা যুক্ত পা কে প্রতিটি খেলোয়াড় শূন্যে লাফিয়ে ইচিং বিচিং ছড়া বলতে বলতে দু’বার অতিক্রম করে নেয়। আর এভাবেই খেলাটি শেষ হয়।
এই খেলা গুলো আমার ছোট বেলার খেলা। বগুড়া জেলার এমন কোন গ্রাম নাই যে যারা ৯০ দশকের তারা এই খেলা খেলেনি।
শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বগুড়া জেলার গ্রামবাংলার খেলা
কুতকুতঃ
গ্রামীন কিশোরী-তরুণীদের অন্যতম প্রধান খেলা । বিকালের নরম আলোয় গৃহের আঙ্গিনায় কৈশর পেরোনো তরুণীরা কুতকুত খেলায় মেতে ওঠে । বর্ষার পরের নরম মাটিতে মাটির ভাঙ্গা তৈজসপত্রের অংশ দিয়ে দাগ কেটে কুতকুতের জন্য ঘর বানানো হয় । বাংলার গ্রামীণ মেয়েরা যে কোনো ঋতুতেই এই খেলা খেলে থাকে ।
খেলার নিয়মাবলীঃ
আয়তক্ষেত্রাকার মোট ৭/৮টি ঘর আঁকা হয় এবং এই ঘরগুলোর শেষ মাথায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির আর একটি ঘর বানানো হয়। প্রথম ঘরে গুটি ফেলে এক পা শূন্যে রেখে এবং দম দিতে দিতে গুটিকে সবগুলো ঘর অতিক্রম করে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘরে এনে পা নামিয়ে দম ফেলা যায়। তার পর এই ঘর থেকে গুটিকে পা দিয়ে আঘাত করে সব ঘর অতিক্রম করানোর চেষ্টা করা হয়। গুটিটি সব ঘর অতিক্রম না করলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘর থেকে বের হয়ে শূন্যে পা তুলে দম নিতে নিতে তাকে আবার আগের নিয়মে ঘর থেকে বের করে আনতে হয়। খেলোয়াড়রা কপালে গুটি রেখে উপর দিকে তাকিয়ে ৮টা ঘরের দাগে পা না ফেলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ঘরে যেয়ে আবার প্রথম ঘরে ফেরত আসতে পারলে সে ঘর কেনার যোগ্যতা অর্জন করে। কুতকুত খেলায় যে ঘর কেনা হবে সেই ঘরে পা বা গুটি ফেলা যাবেনা। ঘর কেনার প্রক্রিয়াকালীন সময় খেলোয়াড়ের দাঁত দেখা গেলে ঐ খেলোয়াড়ের খেলা ঐ অবস্থায় মারা যায়। ক্রমান্বয়ে ঘর কিনে শেষ ঘরটি দখল করার মাধ্যমে খেলার নিস্পত্তি হয়।
কয়দিন আগে নানীর বাড়ি গিয়ে আমার ছেলে ছোট ছোট মেয়েদের খেলা দেখে কুতকুত খেলা শিখেছে। খুব ভালো লাগলো যে এখনো গ্রামে ছোট ছেলে মেয়েরা কুতকুত খেলে। আমি ও আগে এই খেলা খেলতাম। খুব মজার একটা খেলা।
শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
আমাদের বগুড়া জেলার একটি খেলা
কড়ি খেলাঃ
এটি আরেকটি বাংলাদেশের গ্রামীন খেলা । যে সব কৈশোর উত্তীর্ণ মেয়েদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত সাধারণত তারাই কড়ি বেশী খেলে থাকে। কড়ি পাঁচ গুটির মতই সমান জনপ্রিয় একটি খেলা । কড়ি হিসাবে খেজুরের বিচী দিয়ে কড়ি বানিয়ে খেলতাম।
খেলার নিয়ামাবলীঃ
কড়ি খুবই সহজ ও সরল একটি খেলা। চারটি কড়ি কোনো মসৃণ স্থানে হাত থেকে গড়িয়ে দিয়ে জোড়ায় জোড়ায় টোকা দিয়ে আঘাত করে পয়েন্ট সংগ্রহ করা হয়। আঘাত করতে ব্যর্থ হলে বা কড়ি চালার পর এক সাথে লেগে থাকলে ঐ খেলোয়াড়ের দান নষ্ট হয়ে যায় এবং অন্য জন খেলা শুরু করে। নিজের মাথার চুল দিয়ে গ্রামের মেয়েরা প্রায়ই আপাত স্পর্শ করে থাকা গুটিকে পৃথক প্রমাণ করে থাকে। কড়ি চালার পর যদি তিনটি গুটির বুক উপড়ে থাকে তবে ঐ দান নষ্ট হয় আর যদি চারটি গুটিই বুক উপড়ে থাকা অবস্থায় পড়ে তবে প্রতি গুটির জন্য চারটি করে পয়েন্ট পাওয়া যায় এবং এই গুটি সংগ্রহ করা নিয়ে খেলোয়াড়দের মাঝে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়।এটা খুব মজার একটা খেলা।বিষেশ করে বৃষ্টির দিনে সবাই খুব খেলতাম কারন তখন বাহিরে যাওয়া যেত না।কখনো দুই জন কখনো তিন জন মিলে খেলতাম।
বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
গ্রামীন একটা খেলা
কানামাছি
গ্রমীণ খেলাধুলার মধ্যে কানামাছি একটি চমৎকার খেলা । এদেশের সর্বত্র শিশু কিশোররা এ খেলা খেলে থাকে ।
এই খেলার সাথে সাথে ছেলে মেয়েদের মুখি উচ্চারিত হয়ঃ
"কানামাছি ভোঁ ভোঁ
যারে পাবি তারে ছো"
খেলার নিয়ামাবলীঃ
এ খেলায় কাপড় দিয়ে একজনের চোখ বেঁধে দেয়া হয়, সে অন্য বন্ধুদের ধরতে চেষ্টা করে । যার চোখ বাঁধা হয় সে হয় 'কানা' । অন্যরা 'মাছি'র মতো তার চারদিক ঘিরে কানামাছি ছড়া বলতে বলতে তার গায়ে টোকা দেয় । চোখ বাঁধা অবস্থায় সে অন্যদের ধরার চেষ্টা করে । সে যদি কাউকে ধরতে পারে এবং বলতে পারে তার নাম তবে ঐ ব্যক্তিকে কানামাছি সাজতে হয় । খুব মজার একটা খেলা
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
গ্রামীন একটা খেলা
ওপেন টু বাইষ্কোপঃ
গ্রামীন খেলাধুলার মধ্যে অন্যতম । এখনো শহরে কি গ্রামে এই খেলাটি খেলে থাকে অনেকেই।
এই খেলার সাথে সাথে ছেলে মেয়েদের মুখি উচ্চারিত হয়ঃ
" ওপেন টু বাইষ্কোপ
নাইন টেন তেইশ কোপ
সুলতানা বিবিয়ানা
সাহেব বাবুর বৈঠাকখানা
সাবেহ বলেছে যেতে
পান সুপারি খেতে পানের আগায় মরিচ বাটা
স্প্রিংএর চাবি আঁটা
যার নাম মনিমালা
তাকে দেবো মুক্তার মালা ।"
খেলার নিয়ামাবলীঃ
দু'জন দলপতি ফুল অথবা ফলের নামে নিজেদের দলের নাম নির্বাচন করে। তারা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দু'হাত দিয়ে একটি তোরণ নির্মাণ করে। খেলায় অংশগ্রহনকারী খেলোয়াড়রা পরস্পরের কাঁধে হাত রেখে রেলগাড়ির মতো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছড়া বলতে বলতে এই তোরণের নীচ দিয়ে যাতায়াত করতে থাকে। ছড়া শেষ হবার মূহুর্তে যে খেলোয়াড় তোড়নের মধ্যে অবস্থান করে তাকে দলপতিরা হাতের মধ্যে বন্দী করে। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করে সে কোন দলে যোগ দেবে। তখন সে তার পছন্দের দলে যোগ দেয়। এই ভাবে প্রতিটি খেলোয়াড় দুই দলে বিভক্ত হয়ে মূল খেলা শুরু করে। কখনো কখনো মূল খেলা হিসেবেই ওপেন টু বাইস্কোপ খেলাটি খেলা হয়ে থাকে।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বগুড়া জেলার বিখ্যাত ভাসু বিহার
স্থানীয়ভাবে নরপতির ধাপ নামে পরিচিত এ প্রত্নস্থলে ১৯৭৩-৭৪ সনে উৎখনন শুরু করা হয় এবং পরবর্তী দুই মৌসুম তা অব্যাহত থাকে দুটি মধ্যম আকৃতির সংঘারাম ও একটি মন্দিরের স্থাপতিক কাঠামোসহ প্রচুর পরিমান প্রত্নবস্তু উম্মোচিত হয়। অপেক্ষাকৃত ছোট সংঘারামটির আয়তন উত্তর-দক্ষিনে ৪৯ মিঃ ও পূর্ব পশ্চিমে ৪৬ মিঃ। এর চার বাহুতে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ২৬টি কক্ষ এবং কক্ষগুলোর সামনে চর্তুপার্শ্বে ঘোরানো বারান্দা এবং পূর্ববাহুর কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ পথ রয়েছে। বৃহদায়তনের বিহারটির ভূমি পরিকল্পনা ও স্থাপত্য কৌশল প্রথমটির অনুরূপ পরিমাপ পূর্ব পশ্চিমে ৫৬মিঃ ও উত্তর-দক্ষিনে ৪৯ মিঃ। চার বাহুতে ৩০টি ভিক্ষু কক্ষ এবং দক্ষিণ বাহুর কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ পথ অবস্থিত। বিহারের অদুরে উত্তরমুখী মন্দিরটির আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৩৮মিঃ এবং পূর্ব-পশ্চিমে ২৭মিঃ মন্দিরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একটি বর্গাকার ম-প। এর চর্তুদিকে ধাপে ধাপে উন্নীত প্রদক্ষিণ পথ। প্রায় ৮০০ প্রত্নবস্তুর মধ্যে ব্রোঞ্জের ক্ষুদ্রাকৃতির মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক এবং পোড়ামাটির সিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ এছাড়াও সংগৃহীত হয়েছে মূল্যবান পাথরের গুটিকা, লোহার পেরেক, মাটির গুটিকা, নকসাংকিত ইট, মাটির প্রদীপ ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যবহারের দ্রব্যাদি এবং প্রচুর মৃম্ময় পাথর টুকরা। এ সমস্ত বিভিন্ন ধরণের প্রত্নবস্তুর থেকে ভাসু বিহারের শেষ যুগের দশ/একাদশ শতক শিল্পকর্ম ও দৈনন্দিন যাত্রার একটি পরিচয় পাওয়া যায়। শিবগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত প্রাচীনতম বিহারের অংশ বিশেষ।
বাংলাদেশ থেকে অনেক পর্যটক আসে এই ভাসে বিহার দেখতে।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বগুড়া জেলার ঐতিহ্য
গোকুল মেধ (বেহুলার বাসরঘর):
বগুড়া শহর থেকে১০কিঃমিঃ উত্তরে এবং মহাস্থানগড় থেকে ২কিঃমিঃ দক্ষিণে গোকুল গ্রামের দক্ষিনপশ্চিম প্রান্তে যে স্মৃতিস্তপটি যুগযুগ ধরে অতীতের অসংখ্য ঘটনাবলীর নিদর্শন বুকে জড়িয়ে শির উঁচু করে দাড়িয়ে আছে ইহাই বেহুলার বাসর ঘর নামে পরিচিত।এ বাসর ঘর মেড় থেকে মেদ এবং বর্তমানে পুরার্কীতি নামে পরিচিত। তবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মতে আনুমানিক খৃস্টাব্দ সপ্তম শতাব্দি থেকে ১২০০ শতাব্দির মধ্যে এটানির্মিত। ইস্টক নির্মিত এ স্ত্তপটি পূর্ব পশ্চিমে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ এবং ত্রিকোন বিশিষ্ট ১৭২ টি কক্ষ, অকল্পনীয় এ কক্ষগুলোর অসমতা এবং এলোমেলো বুনিয়াদ এর বোধগম্যতাকে আরো দুর্বোধ করে তুলেছে । বেহুলার কাহিনী সেনযুগের অনেক পূর্বেকার ঘটনা। বেহুলার বাসরঘর একটি অকল্পনীয় মনুমেন্ট। বর্তমান গবেষকদের মতে এমনুমেন্ট ৮০৯ থেকে ৮৪৭ খৃস্টাব্দে দেবপাল নির্মিত একটি বৈদ্যমঠ। এই স্হাপত্তিই বাসরঘর নয়। এই স্হাপত্তিটির পশ্চিমার্ধে আছে বাসর ঘরের প্রবাদ স্মৃতিচিহ্ন। পূর্বার্ধে রয়েছে ২৪ কোন বিশিষ্ট চৌবাচ্চাসদৃশ একটি বাথরুম। উক্ত বাথরুমের মধ্যেছিল ৮ ফুট গভীর একটিকুপ। কুপটিতে বেহুলা লক্ষিনদর মধুনিশি যাপনের পর কুপের ক্ষিতজলে স্নান করে তাতে শুদ্ধতা লাভ করতে সক্ষম হতেন।
এই জায়গা গুলো আমার নিজের চোখে দেখা এবং সেখান থেকেই এই তথ্য গুলো জেনেছিলাম যা আজ কাজে লাগছে।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বিখ্যাত খেড়ুয়া মসজিদ, শেরপুর:
এটি সুলতানী ও মোগল আমলে নির্মিতএকটি ঐতিহাসিক মসজিদ।খেরুয়া মসজিদ বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন। মোগল-পূর্ব সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত এই মসজিদ। প্রায় ৪৩০ বছর ধরে টিকে থাকা এই মসজিদের অবস্থান বগুড়া শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা সদরের খোন্দকার টোলা মহল্লায়।মসজিদটি টিকে আছে চার কোণের প্রকাণ্ড আকারের মিনার আর চওড়া দেয়ালের কারণে। ইটে খোদাই করা নকশা ক্ষয়ে গেছে এবং চুন-সুরকির প্রলেপ ঝরে গেছে। চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা পাতলা লাল ইটের দেয়ালগুলো ১.৮১ মিটার চওড়া। তার ওপর ভর করেই ছাদের ওপর টিকে আছে খেরুয়া মসজিদের তিনটি গম্বুজ। খেরুয়া মসজিদ বাইরের দিক থেকে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১৭.২৭ মিটার, প্রস্থ ৭.৪২ মিটার। পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলান দরজা। মাঝেরটি আকারে বড়। উত্তর-দক্ষিণে একটি করে খিলান দরজা। কোনোটিতেই চৌকাঠ নেই। ফলে দরজার পাল্লা ছিল না। পূর্বের বড় দরজাটির নিচে কালো পাথরের পাটাতন। পূর্বের দরজা বরাবর পশ্চিমের দেয়ালের ভেতরের অংশে তিনটি মেহরাব। মেহরাবগুলোর ওপরের অংশ চমৎকার কারুকাজখচিত। মসজিদটির নিচের অংশে ভূমি পরিকল্পনা মোগল স্থাপত্যরীতির। ওপরের অংশ মোগল-পূর্ব সুলতানিরীতিতে। চার কোণে দেয়াল থেকে খানিকটা সামনে চারটি বিশাল মিনার। ছাদের ওপর তিনটি ৩.৭১ মিটার ব্যাসের অর্ধ গোলাকৃতির গম্বুজ। কার্নিশ ধনুকের মতো বাঁকা। তার তলায় সারিবদ্ধ খিলান আকৃতির প্যানেলের অলংকরণ। অত্যন্ত সুন্দর এর দেয়ালের গাঁথুনি। নান্দনিক বৈচিত্র্য আনা হয়েছে ইটের বিন্যাস ও খাড়া প্যানেল তৈরি করে। সামনের অংশের ইটে আছে ফুল-লতা-পাতা খোদাই করা নকশা। মিনার, গম্বুজ, নকশা ও ইটের বৈচিত্র্যময় গাঁথুনিতে পুরো স্থাপত্যটি অত্যন্ত নান্দনিক হয়ে উঠেছে। মসজিদের সামনে সবুজ ঘাসে ঢাকা আয়তাকার মাঠ। মসজিদের কিনার দিয়ে তাল, নারকেল, আম, কদমগাছের সারি। এক পাশে মৌসুমি ফুলের গাছও আছে। ইটের প্রাচীরের ওপর লোহার রেলিং দিয়ে পুরো চত্বর ঘেরা। মোট জায়গার পরিমাণ প্রায় ৫৯ শতাংশ। নামাজের সময় মুসল্লিরা ছাড়া সাধারণত কেউ ভেতরে প্রবেশ করে না। তাই প্রাঙ্গণটি নিরিবিলি এবং খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। গাছগাছালিঘেরা সবুজ পরিবেশে তিন গম্বুজওয়ালা প্রাচীন স্থাপত্যটিকে মনোরম দেখায়।
এই মসজিদে আমি কখনো যাইনি তবে ইচ্ছা আছে যাবো। পারলে আপনারাও একবার ঘুরে যাবেন।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
মহাস্থানগড়, বগুড়া
মহাস্থানগড়ের বিস্তীর্ণ ধবংসাবশেষ প্রাচীর পুন্ড্রবর্ধনভূক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরের সুদীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী। এ ধবংসাবশেষ বগুড়া জেলা শহরের ১৩ কিঃমিঃ উত্তরে করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরেঅবস্থিত। সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী পর্যায়ক্রমে মাটি ও ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে৫মিঃ উচু। বেস্টনী প্রাচীর ছাড়াও পূর্ব দিকে নদী ও অপর তিনদিকে গভীর পরিখা নগরীর অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন হতে জানা যায় যে, কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য , গুপ্ত এবং পাল শাসক বর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল। দূর্গের বাইরে উত্তর , পশ্চিম , দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম ৭/৮ কিলোমিটারের মধ্যে এখনও বিভিন্ন ধরণের বহু প্রাচীন নিদের্শন রয়েছে যা উপ-শহরের সাক্ষ্য বহন করে। উল্লেখ্য, বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হুয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।প্রখ্যাত বৃটিশ প্রত্নতত্ববিদ স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দে মহাস্থান গড়ের ধ্বংসাবশেষকে ফুয়েন সাঙ বর্ণিত পুন্ডু নগর হিসেবে সঠিক ভাবে সনাক্ত করে।
নিজের চোখে দেখে এবং সেখান থেকেই এই তথ্য গুলো জেনে নিয়ে রচনা লিখতে হয়েছিল ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের শিক্ষা সফরে ২০০৭ সালে। আজ এত বছর পর আবার লিখলাম।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
রুমাল চুরি
ছোটবেলার একটা খেলা
রুমাল চুরি
খেলার উপকরণ একটি রুমাল।
ছোট্ট এক টুকরো কাপড় হলেও চলে। আট-দশজনের বড় দল হলে খেলতে মজা হয়।
খেলোয়াড়রা সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে হাত তুলবে। হাত তোলার সময় হাতের তালু বা পাতা যেকোনো একটি উপরের দিকে রাখতে হবে। যদি হাতের তালুর সংখ্যা বেশি থাকে, আর হাতের পাতার সংখ্যা কম থাকে, তাহলে যাদের যাদের সংখ্যা কম তারা একে একে সরে যাবে। এভাবে শেষ পর্যন্ত যে থাকবে, সে হবে চোর। কিন্তু শেষবারে যদি দু’জন থাকে। আর হাতের একই দিক দেখায়, তাহলে যারা একে একে সরে গেছে তাদের মধ্যে থেকে একজন এসে আবার হাত পাতবে। তিনজনের মধ্য থেকে একজন চোর নির্বাচিত হবে। এবার খেলা শুরু।
চোর বাদে দলের সবাই গোল হয়ে বসবে। চোর সবার পেছন দিয়ে রুমাল নিয়ে ঘুরতে থাকবে। ঘুরতে ঘুরতে এক সুযোগে রুমালটি গোল হয়ে বসা কোনো এক খেলোয়াড়ের পেছনে রেখে দেবে। চোর এরপর একবার ঘুরে আসার পর যার পেছনে রুমাল লুকিয়ে রাখা হয়েছে, সে যদি টের না পায়, তাহলে চোর তাকে কিল মারতে থাকবে। তখন সে-ই হবে নতুন চোর। আর পুরোনো চোর বসে পড়বে নতুন চোরের স্থানে। এভাবে পুনরায় খেলা শুরু হবে।
উল্লেখ্য, যদি রুমাল কারও পেছনে রেখে চোর ঘুরে আসার আগেই সে টের পেয়ে যায়, তবে রুমাল হাতে নিয়ে সে হবে নতুন চোর। আগের চোর খালি জায়গায় বসে পড়বে। এখানে আর নতুন চোরকে কিল দেবে না পুরনো চোর!
আগে তখন কারেন্ট চলে যেত চাঁদের রাতে তখন এই খেলা খুব খেলতাম সবাই।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
সাত চাড়া বা টিপু খেলা
ছোটবেলায় ছেলেদের সাথে এই খেলা অনেক খেলেছি।এই খেলায় দুইটি দল থাকে। ভাঙা হাঁড়ি বা কলসির টুকরা কিংবা পাতলা ইট বা পাথরের সাতটি চাড়া ওপর নিচে স্তম্ভ আকারে সাজানো হয়। স্তম্ভের দশ বারো হাত সামনে থেকে দাগ দিয়ে একটি সীমানা দেওয়া থাকে। তার ওপাশ থেকে একটি টেনিস বল চাড়াগুলোকে লক্ষ্য করে ছুড়ে দেওয়া হয় যেন বলটি চাড়াগুলোকে আঘাত করে, কিন্তু একেবারে কম সংখ্যক চাড়া স্তম্ভচ্যূত হয়।
বল ছোঁড়ার জন্য তিন দান থাকে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের। কেউ সফল হলে তারা দ্রুততার সাথে আবার স্তম্ভটিকে সাজিয়ে তুলতে চেষ্টা করে আর বিপক্ষ দল বলটি কুড়িয়ে তাদের আঘাত করার চেষ্টা করে। স্তম্ভ পুনরায় গড়ে তুলতে পারলে সে দল এক পয়েন্ট পায়, আর বিপক্ষ দল যদি সব ঐ দলের সব খেলোয়াড়কে বল দিয়ে আঘাত করতে পারে, তবে তারা পয়েন্ট পায়। এভাবে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে এবং শেষে যার পয়েন্ট বেশি হয় সেই দল জিতে যায়। ছোটবেলার এই খেলা গুলো সত্যিই অসাধারণ মজার ছিল।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
বাঘছাগল খেলা
যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম টিফিন সময় ছেলে মেয়ে সবাই মিলে স্কুলে এই বাঘছাগল খেলা খুব খেলতাম। খুব মজার একটা খেলা।
বাঘ ছাগল খেলায় প্রথমে মাটিতে দাগ কেটে বৃত্ত তৈরি করা হয়। এরপর দল থেকে একজনকে ‘বাঘ’ নির্বাচন করা হয়। দলের বাকি খেলোয়াড়রা ‘ছাগল’ হিসেবে বৃত্তের ভেতর অবস্থান করে। বাঘের কাজ হলো বৃত্তের বাইরে থেকে বৃত্তের ভেতর আক্রমণ করা এবং একটি ছাগল ছিনিয়ে নেওয়া।
বাঘ সুযোগ পেলেই একটি করে ছাগল খাবে। ছাগল কৌশলে বাঘের পেটে যাওয়ার পরিবর্তে তাকে বন্দি করার চেষ্টা চালাবে। এভাবে বাঘ একজন একজন করে নিয়ে তার দল ভারি করে। শেষ পর্যন্ত যে ছাগল বৃত্তের ভেতরে টিকে থাকতে পারে সে পরবর্তী দানের জন্য বাঘ নির্বাচিত হয়।
ছাগদলকে আক্রমণ করার সময় বাঘ বিভিন্ন রকম কৌশল অবলম্বন করে। কোন ছাগলকে আক্রমণ করলে ছাগদলের অন্য সদস্যরা তাকে টেনে ধরে রাখে। খেলা চলতে থাকে দুই পক্ষের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে। বাঘ প্রথমে কান্নাজড়ানো কণ্ঠে বলতে থাকে, ‘অ্যাঙ্গা অ্যাঙ্গা’। এরপর ছাগলরা সমস্বরে বলে, ‘কান্দো ক্যান?’ এভাবে কথোপকথনের মাঝেই বাঘ ছাগদলকে আক্রমণ করে।
বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব ৫
ডাংগুলি বা ফুত্তি পান্টি
ডাংগুলি খেলা বাংলাদেশের সব জায়গাতেই খুব জনপ্রিয়। দুই দলে ভাগ হয়ে এটি খেলতে হয়। সাধারণত কম বয়সী ছেলে আর কিশোরেরা ডাংগুলি খেলে থাকে। একটি দেড় হাত লম্বা লাঠি এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা একটি কাঠি হলো খেলার উপকরণ। লম্বা লাঠিটিকে বলে ডান্ডা আর ছোটটিকে বলে গুলি বা ফুত্তি।
ডাংগুলি খোলা মাঠের খেলা। মাঠে ছোট্ট একটি লম্বালম্বি গর্ত করা হয়। টসের মাধ্যমে যারা দান পায়, তাদের একজন গর্তের উপর গুলি রেখে ডান্ডা মেরে তুলে সেটিকে পরের বাড়িতে দূরে ফেলার চেষ্টা করে। প্রতিপক্ষ তখন চারিদিকে ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে গুলিটি ধরে ফেলার জন্য। তারা গুলিটি মাটিতে পড়ার আগে ধরে ফেলতে পারলে ডান্ডা মারা খেলোয়ারটি আউট হয়। আর না ধরতে পারলে প্রথম খেলোয়াড়টি তার ডান্ডা গর্তের উপর রাখে এবং প্রতিপক্ষ গর্তের উপর রাখা ডান্ডা লক্ষ্য করে গুলিটি ছুঁড়ে মারে। গুলিটি ডান্ডা ছুঁলে সে দান হারায়, আর না ছুঁলে সে আবার গুলিটি ডান্ডা দিয়ে তুলে দূরে পাঠায়। পরে সে গুলি থেকে গর্ত পর্যন্ত ডান্ডা দিয়ে মাপতে থাকে।
আমি ছোট বেলায় একবার খেলতে গিয়েছিলাম আব্বা তখন খুব করে বকেছিল কারন এটা সাধারণত ছেলেরা খেলতো।তাই বকা খেয়েছিলাম এখনো মনে আছে।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব
গ্রামীন খেলা মোরগ লড়াই
গ্রামের অসাধারণ মজার একটা খেলা মোরগ লড়াই।ছেলেরাই বেশি খেলে থাকে তবে মেয়েরাও খেলে। আমি এই খেলায় একবার পুরস্কার পেয়েছিলাম প্রথম আলো বন্ধুসভার একটা আয়োজনে।তখন আমি অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম। খুব মজার একটা খেলা।
মোরগ লড়াই খেলায় একদল ছেলে গোল হয়ে একপায়ে দাড়িয়ে থাকে। দুই হাত দিয়ে অপর পা পিছনে ভাজ করে রাখতে হয়। রেফারি যখন বাশিঁতে ফুঁ দেন তখনই খেলোয়াড়রা একে অপরকে ভাজ করা পা দিয়ে মারতে থাকে। কেউ পরে গেলে সে বাতিল বলে গণ্য হয়। এভাবে শেষ পর্যন্ত তিনজন থাকে। তাদের মধ্য থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্ধারন করা হয়।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল পর্ব ৩
গ্রামীন খেলা দোকানপাট:
ছোটবেলায় আরেকটি মজার খেলা ছিল মুদি দোকান। লাঠি ও নারকেল কিংবা কলা গাছের পাতার ছাউনি দিয়ে বানানো হতো এ দোকান। বাবার কাছ থেকে চকলেট কেনার জমানো টাকায় পুঁজি ছিল এ ব্যবসার। পরে নানারকম মুদিপণ্য বন্ধুদের কাছে একটু বেশি দামে বিক্রি করাই ছিল এ খেলার মজা। আমাদের সময় মানে নব্বই দশকে এই খেলা টা গ্রামে খুব খেলা হতো।তখন চার আনি তবে একটা চকলেট পাওয়া যেতো।এক টাকায় চারটা।এক টাকায় ক্রিম বিস্কুট পাওয়া যেতো। এক টাকায় কেক পাওয়া যেতো। দুই টাকায় অনেক গুলো নিমকি পাওয়া যেতো। এগুলো দোকানে এনে খুব অল্প লাভে বিক্রি করতাম।মে কয়জন টাকা ইনভেস্ট করতো তারা পরে ভাগ করে নিতাম।মুদি দোকানে হরেক রকম পন্য থাকতো।কি যে মজার খেলা ছিল। আবার যদি একবার ফিরে পাওয়া যেতো হারানো সেই শৈশব।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১
আরিফা মডেল
শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১
শিক্ষনীয় গল্প
এক ব্যক্তি জঙ্গলে হাটছিলেন। হঠাৎ দেখলেন এক সিংহ তার পিছু নিয়েছে। তিনি প্রাণভয়ে দৌড়াতে লাগলেন। কিছুদূর গিয়ে একটি পানিহীন কুয়া দেখতে পেলেন।তিনি চোখ বন্ধ করে দিলেন ঝাঁপ। পড়তে পড়তে তিনি একটি ঝুলন্ত দড়ি দেখেতা খপ করে ধরে ফেললেন। এবং ঐ অবস্থায় ঝুলে রইলেন।উপরে চেয়ে দেখলেন কুয়ার মুখে সিংহটি তাকে খাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। নিচে চেয়ে দেখলেন বিশাল এক সাপ তার নিচে নামার অপেক্ষায় চেয়ে আছে। বিপদের উপর আরো বিপদ হিসেবে দেখতে পেলেন একটি সাদা আর একটি কালো ইঁদুর তার দড়িটি কামড়ে ছিড়ে ফেলতে চাইছে। এমন হিমশিম অবস্থায় কি করবেন যখন তিনি বুঝতে পারছিলেন না, তখন হঠাৎ তার সামনে কুয়ার সাথে লাগোয়া গাছে একটা মৌচাক দেখতে পেলেন। তিনি কি মনে করে সেই মৌচাকের মধুতে আঙ্গুল ডুবিয়ে তা চেটে দেখলেন। সেই মধুর মিষ্টতা এতই বেশি ছিল যে তিনি কিছু মুহূর্তেরজন্য উপরের গর্জনরত সিংহ, নিচের হাঁ করে থাকা সাপ, আর দড়ি কাঁটা ইঁদুরদের কথা ভুলে গেলেন। ফলে তার বিপদ অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়ালো। এই সিংহটি হচ্ছে আমাদের মৃত্যু, যে সর্বক্ষণ আমাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।সেই সাপটি হচ্ছে কবর। যা আমাদের অপেক্ষায় আছে। দড়িটি হচ্ছে আমাদের জীবন, যাকে আশ্রয় করেই বেঁচে থাকা। সাদা ইঁদুর হল দিন, আর কালো ইঁদুর হল রাত, যারা প্রতিনিয়ত ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের আয়ু কমিয়ে দিয়ে আমাদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আর সেই মৌচাকহল দুনিয়া। যার সামান্য মিষ্টতা পরখ করে দেখতে গেলেও আমাদের এই চতুর্মুখি ভয়ানক বিপদের কথা ভুলে যাওয়াটা বাধ্য। তাই আমাদের সচেতন হওয়া জরুরী।
https://www.facebook.com/Jonaki-fashion-corner-103813044709268/
Click here
-
প্রযুক্তির ব্যবহার সময় বদলে গেছে এবং সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে পারিপার্শ্বিক অবস্থা।সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ...
-
গ্রামীন খেলা মোরগ লড়াই গ্রামের অসাধারণ মজার একটা খেলা মোরগ লড়াই।ছেলেরাই বেশি খেলে থাকে তবে মেয়েরাও খেলে। আমি এই খেলায় ...
-
বগুড়া জেলার একটা খেলা গোল্লাছুট স্কুল মাঠ, খোলা জায়গা আমরা গোল্লাছুট খেলায় মেতে উঠতাম। এ খেলার জন্য ছোটাছুটি ও দৌড়াদৌড়ি...